রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা এবং খাওয়ার নিয়ম

by isk 0 Comments
রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা এবং খাওয়ার নিয়ম
আপনার চেম্বার/হাসপাতাল/মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

(চট্টগ্রামের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছে যাক আপনার সেবার বার্তা)

প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

রসুন কি ?

রসুন হল পিঁয়াজ জাতীয় একটি ঝাঁঝালো সবজি যা রান্নায় মশলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়,আবার এটি ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।তাছাড়া বিভিন্ন আচার ও মুখরোচক খাবার তৈরীতে রসুনের ব্যবহার করা হয়।এর বৈজ্ঞানিক নাম ” অ্যালিয়াম স্যাটিভাম”

 

রসুনে কি কি ভিটামিন আছে ?

# থিয়ামিন (ভিটামিন বি১),

# রিবোফ্লাবিন (ভিটামিন বি২),

# নায়াসিন (ভিটামিন বি৩),

# প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড (ভিটামিন বি৫),

# ভিটামিন বি৬,

# ফোলেট (ভিটামিন বি৯)

# সেলেনিয়াম

# এলিসিন

 

রসুন নিয়ে মজার তথ্যঃ

# ইউরোপে “হোয়াইট ম্যাজিক” করতে মানুষ রসুন ব্যবহার করতো।

# ভ্যাম্পায়ার তাড়ানোর কাজে রসুন ব্যবহার করতো।

# বিশ্বের ৬০% রসুন উৎপাদন হয় চীনে।

# বিভিন্ন দেশে মিষ্টি তৈরীতে রসুন ব্যবহার করা হয়।

# ১ম বিশ্বযুদ্ধে আহত সৈনিকদের গ্যাংগ্রিনের চিকিৎসায় সালফার সংকট হলে রসুন ব্যবহার করা হয়।

# ১৯ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে ‘রসুন দিবস’ পালিত হয়।

 

রসুনের উপাকারিতাঃ

 

রসুন একটি ভেষজ উদ্ভিদ।প্রাচীন ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে জানা যায়, তখন রসুন কিন্তু শুধু বিভিন্ন অসুখ সারানোর জন্যই ব্যবহার হতো। মিসরীয়,ব্যাবিলনীয়,গ্রিক,রোমান ও চৈনিক সভ্যতায় ওষুধ হিসেবে রসুন ব্যবহারের নিদর্শন পাওয়া গেছে।এর বিভিন্ন ধরণের শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা আছে।দিনে বা রাতে যে রসুন খান তা শরীরের জন্য উপকারী।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি

রসুনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ একে অনেকটা ওষুধের মতোই তৈরি করেছে, যার দরুন রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। খালি পেটে রসুন খেলে এই উপকার বেশি। বর্তমানে এই অতিমারি পরিস্থিতিতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুব জরুরি, তাই প্রতিদিন দুই কোয়া রসুন খেতে পারেন।

রক্ত সঞ্চালনক্ষমতা বাড়ায়

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই কোয়া রসুন খেলে রক্ত সঞ্চালনক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যার দরুণ রক্ত বাধাগ্রস্ত হয়ে যেসব রোগের সৃষ্টি করে, তা আর হতে পারে না।

পুরুষের যৌনক্ষমতা বা সেক্স পাওয়ার বাড়াতেও বেশ সহায়ক

রসুন পুরুষের সেক্সের অনেক উপকার করে। পুরুষের যৌনক্ষমতা নানান কারণে কমে যেতে পারে, সে ক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই কোয়া রসুন খেলে ধীরে ধীরে যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এটা নিয়ে মানুষের মধ্যে দুই ধরনের মতামত থাকলেও পুরুষের ক্ষমতার মূল উৎস হচ্ছে রক্তের সাবলীল গতি। রসুনে এই কাজ করে বলেই যৌনক্ষমতার কথা বলা হয়ে থাকে।

হৃৎপিণ্ডের শক্তিবর্ধক

যাঁরা হৃদপিণ্ডের ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে বিব্রত আছেন, মাঝেমধ্যে বুকের বাঁ পাশে ব্যথা অনুভূত হয়, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে কষ্ট হয়, তাঁদের জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই কোয়া রসুন পানি দিয়ে গিলে খেয়ে ফেলতে হবে, এতে করে হৃদপিণ্ড শক্তিশালী হবে, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির কারণে হৃদপিণ্ডের ব্লকগুলো আর বাড়বে না এবং ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারবে না, বুকের ব্যথা কমে যাবে, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে কষ্ট হবে না।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য অনেক পথ্যের অন্যতম রসুন। শরীরের এলডিএল বেড়ে যাওয়ার কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায়, প্রতিদিন দুই কোয়া রসুন সকালে খালি পেটে খেলে উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা থাকবে না।

সংক্রমণ বা ইনফেকশন প্রতিরোধ

মানুষের শরীরে যেকোনো সময়ে সংক্রমণ ঘটতে পারে। সংক্রামক রোগ এমন একটি অবস্থা, যার কোনো পূর্বলক্ষণ থাকে না। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই কোয়া রসুন খেলে শরীর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

ফুসফুসের সংক্রমণ প্রতিরোধ

ফুসফুসে বিভিন্ন কারণে সংক্রমণ হতে পারে। অ্যালার্জি সমস্যা, ঠান্ডা লাগার প্রবণতা থেকে ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটতে পারে, যা থেকে মুক্তি পেতে রসুন পিষে রস খেলে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধ করে, সঙ্গে হলুদগুঁড়া গরম পানি দিয়ে চায়ের মতো খেলে সংক্রমণ থাকে না। আর প্রতিদিন দুই কোয়া রসুন খালি পেটে খাওয়া ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে অত্যন্ত কার্যকর।

রক্ত পরিশোধিত করে

প্রতিদিন দুই কোয়া রসুন খালি পেটে খেলে রক্তের পরিশোধনক্ষমতা বেড়ে গিয়ে রক্ত চলাচলে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসে, তাতে শরীর ভালো থাকে, নিরোগ দেহের জন্য সাবলীল রক্ত চলাচল অত্যন্ত কার্যকর একটি উপায়।

ত্বক ভালো রাখে, ব্রণের উপকার করে

প্রতিদিন দুই কোয়া রসুন খালি পেটে খেলে ত্বক ভালো থাকে, ত্বকে বার্ধ্যকের ছাপ পড়ে না, চেহারায় কোনো দাগ থাকলে কমে যায়।ব্রণ দ্রুত শুকিয়ে যায়।দাগ দূর করে।

শরীরে অবাঞ্ছিত ফোলা বা গোটা

অনেকের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ফোলা পিণ্ড থাকে, বাড়ে কমে না, ব্যথাও করে না, কিন্তু ফোলাটা মিশেও না, এমন ফোলা বা গোটা শরীর থেকে মুছে ফেলতে প্রতিদিন ছয়-আট কোষ রসুন সকালে খালি পেটে এবং দুপুর ও রাতে খাবার পর দুইটি করে রসুন কোষ খেলে ফোলাটা ধীরে ধীরে মিশে যাবে। অথবা দুই কোয়া রসুন হালকা করে ভেজে তা খেতে হবে।

সেল ড্যামেজ রোধ করে

রসুনে উপস্থিত অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ‘সেল ড্যামেজ’ ও ‘এজিং’ রোধ করে। ব্রেনের সেল ড্যামেজ কম হয়ে আলঝেইমারস ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

শরীরের হাড়ের শক্তি বাড়ায়

একটা বয়সের পর বিভিন্ন কারণে নারীদের হাড়ের শক্তি কমে যায়। প্রতিদিন ২ গ্রাম করে রসুন খেলে নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রায় ভারসাম্য থাকে, যাঁদের কম থাকে, তাঁদের কিছুটা বাড়ে। ফলে হাড়সংক্রান্ত সমস্যা অনেকটা কমে যায়। এমনকি যে নারীদের মেনোপোজ হয়ে গেছে, তাঁরাও নিয়মিত রসুন খেলে অনেক উপকার পাবেন।

সেক্সে রসুনের উপকারিতাঃ

# শারীরিক মিলনে আগ্রহ বাড়ায়।

# সেক্স পাওয়ার বাড়ায়।

# ইরেকটাইল ডিসফাংশান দূর করে।

# পুরুষ ও মহিলা উভয়ের সেক্স ড্রাইভ বাড়ায়।

# অকাল বীর্যপাত রোধ করে।

# শুক্রানোর পরিমাণ বাড়ায়।

# বীর্য  ঘন করে।

# সেক্সে বা সহবাসে সময় বাড়ায়।

# বীর্যে কোন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থাকলে দূর করে।

কখন, কীভাবে রসুন খাবেন ?

সকালে খালি পেটে খেতে হবে এমন নয়।ভরা পেটে খাওয়ায় উত্তম। বিকেল-দুপুর বা রাতে খেতে পারেন। রসুন খেতে হবে কাঁচা।দিনে ১-২ কোয়া।কাঁচা না পারলে আচার করে খেতে পারেন।

তারপরেও খেতে অসুবিধা হলে ধনেপাতার সঙ্গে বেটে নিন। নারকেল বা কচু বাটায় মেশান। সালাদ বা দইয়ে মিশিয়ে খাওয়া যায়। কারও ভয় একটাই, শ্বাসে কটূ গন্ধ হবে কি না। সে উপায়ও আছে। একটু পার্সলে পাতা চিবিয়ে নিন, দাঁত মাজুন বা ব্যবহার করুন মাউথ-ওয়াশ, গন্ধ চলে যাবে।

কাচা রসুনের যত অপকারিতাঃ

# এটি অতিরিক্ত খাওয়া লিভারের জন্য ক্ষতিকারক।এতে প্রচুর পরিমাণে থাকা “এলিসিন” লিভারে ক্ষতি করে।

# খালি পেটে রসুন খেলে অনেক সময় ডায়রিয়া হতে পারে।

# বুক জ্বালা পোড়া, বমি হতে পারে।

# মুখে বাজে গন্ধ হয়।

# রসুন রক্ত পাতলা করে।তাই এটি অতিরিক্ত পরিমাণে দীর্ঘ দিন খেলে শরীরে “ইন্টারনাল ব্লিডিং” হতে পারে।

# অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।

# মেয়েদের ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন হতে পারে।তবে এটি রেয়ার।

# রসুন খেলে অনেকের ক্ষেত্রে এলার্জি বেড়ে যায়।

# অতিরিক্ত রসুন চোখের সমস্যা করতে পারে।একে “হাইপিমা” বলে।

কিসমিস কিভাবে সহবাসে শক্তি বাড়ায়?


প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

Leave a reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>