A Leading Doctor information Site In Chittagong

dr6 (2)
dr4
d2
d1
WhatsApp Image 2025-04-21 at 22.16.33_3e14866c
kk
4
a5
a3
5
dr3 (1)

স্তন ক্যান্সারঃ আপনার যা অবশ্যই জানা উচিত

স্তন ক্যান্সারঃ আপনার যা অবশ্যই জানা উচিত

পুরো পৃথিবীতে নারীমৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো স্তন ক্যান্সার। প্রতি ৮ জন মহিলার মধ্যে একজনের স্তন ক্যান্সার হতে পারে এবং আক্রান্ত প্রতি ৩৬ জন নারীর মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা একজনের। আমাদের দেশে ক্যান্সারে যত নারীর মৃত্যু হয়, তার অন্যতম কারণও স্তন ক্যান্সার। প্রতি ৬ মিনিটে একজন নারী এতে আক্রান্ত হয় এবং প্রতি ১১ মিনিটে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন নারী মারা যায়।

কিন্তু এতকিছুর পর ও আমাদের সমাজে স্তন ক্যান্সার নিয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব। আর এই সচেতনতার অভাবে অনেকের একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ধরা পড়ছে এটি। তখন মৃত্যুর প্রহর গোনা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। অথচ ঘরে বসেই সহজে একজন নারী তার স্তন পরীক্ষা করে নিতে পারেন। এতে স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়েই নির্ণয় করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব হলে ক্যান্সারের সাথে লড়াইয়ে জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।চট্টগ্রামের সেরা ১০ স্ত্রী ও প্রসূতীরোগ বিশেষজ্ঞ

স্তন ক্যান্সার কি ?

“স্তন” লক্ষ লক্ষ কোষের সমন্বয়ে গঠিত একটি অঙ্গ যার একটি মাত্র কোষের অনিয়ন্ত্রিত এবং অস্বাভাবিক বিভাজন থেকে স্তন ক্যান্সার বা টিউমারের উৎপত্তি। কখনো কখনো কিছু অস্বাভাবিক কোষ স্তন থেকে দেহের অন্যান্য অঙ্গে পৌছে জন্ম দেয় নতুন টিউমার।স্তন মূলত কতগুলো দুগ্ধগ্রন্থী (মিল্ক গ্ল্যান্ড),মায়ের দুধ প্রবাহের জন্য দুগ্ধনালী(ডাক্ট) এবং গ্রন্থিকে ঘিরে থাকা চর্বি ও আশ জাতীয় টিস্যু নিয়ে গঠিত।প্রতিটি গ্রন্থি ১২-১৬ টি লোব এবং প্রতিটি লোব ৩০/৪০ টি লোবিউল এ বিভক্ত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাল্বে এসে শেষ হয়।স্তন ক্যান্সার সাদারণত এসব দুগ্ধনালী বা গ্রন্থির কোষ থেকেই প্রথম শুরু হয়।

প্রধান লক্ষণ বা উপসর্গসমূহ:

# স্তনের ভেতরে পিণ্ড অথবা স্তন পুরু হয়ে যাওয়া

# স্তনের বোঁটা থেকে রক্ত নিঃসরিত হওয়া

# স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন হওয়া

# স্তনের উপরের ত্বকের পরিবর্তন হওয়া (যেমন: গর্ত হয়ে যাওয়া)

# স্তনের বোঁটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া

# স্তনের বোঁটার চামড়া কুচকে যায় অথবা চামড়া ওঠে যাওয়া

# স্তনের চামড়া লাল হয়ে যাওয়া

উপরোক্ত যেকোনো ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। পরবর্তীতে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করতে পারবেন এটি স্তন ক্যান্সার কি না। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে রোগীর সুস্থ হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি, তাই নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করে দেখতে হবে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ে কি না।

যেসব উপাদান স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়:

# মহিলা: মহিলাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি পুরুষদের চেয়ে বেশি।

# বয়স: যত বয়স বৃদ্ধি হতে থাকে, স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ততোই বাড়তে থাকে। অল্প বয়সের মহিলাদের চেয়ে বয়স্ক মহিলাদের বিশেষ করে ৫৫ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

# পূর্বে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকলে: যদি কারো পূর্বে একটি স্তনে ক্যান্সার হয়ে থাকে, তবে তার অন্য স্তনেও ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

# পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে: যদি কারও মা, বোন অথবা মেয়ের স্তন ক্যান্সার হয়ে থাকে তবে তার স্তনে ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেক গুণ বেশি। তবে স্তন ক্যান্সার ধরা পড়েছে, এমন ব্যক্তিদের অধিকাংশরই কোনো পারিবারিক ইতিহাস নেই।

# তেজস্ক্রিয়তা: শিশু অথবা তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক তেজস্ক্রিয়/বিকিরণ রশ্মি দিয়ে চিকিৎসা করলে পরবর্তী জীবনে তার স্তন ক্যান্সারের বিকাশের সম্ভাবনা থাকে।

# স্থূলতা: মাত্রাতিরিক্ত ওজন (অথবা মোটা) স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। চর্বি ইস্ট্রোজেন হরমোন উৎপাদন করে, যা ক্যান্সারের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।

# তাড়াতাড়ি ঋতুস্রাব: ১২ বছর বয়স হওয়ার আগে ঋতুস্রাব হলে তা স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

# দেরিতে মেনোপজ: ৫৫ বছর বয়সের পর যদি মেনোপজ হয়, তা স্তন ক্যান্সারের বিকাশ ঘটাতে পারে।

# দেরিতে গর্ভধারণ: ৩৫ বছরের পরে যদি কোনো মহিলা প্রথম সন্তান জন্ম দেয় তবে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

# হরমোন চিকিৎসা: ঋতুজরার লক্ষণ ও উপসর্গ সমূহের জন্য যেসব মহিলা ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনে মিলিত হরমোনের চিকিৎসা নেন, তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে।

# মদ্যপান: অতিরিক্ত মদ্যপান স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

 

ডায়াগনোসিসঃ

# ফিজিক্যালি স্তন পরীক্ষা

# ম্যামোগ্রাম

# ব্রেস্ট আল্ট্রাসাউন্ড

# বায়োপসি

# এম আর আই

# টিউমার মার্কার টেস্ট

সতর্কতাঃ

# স্তনের পরিবর্তন মানেই ক্যান্সার নয়।

# ক্যান্সার মানেই নিশ্চিত মৃত্যু নয়।প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় হলে,উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রায় শতভাগ নিরাময় যোগ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement
Please wait: 6 seconds