ডি-কোয়ারভ্যান টেনো-সাইনোভাইটিস (ডি,টি) বা কব্জির রগ শক্ত হয়ে যাওয়া রোগ

আপনার চেম্বার/হাসপাতাল/মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

(চট্টগ্রামের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছে যাক আপনার সেবার বার্তা)

প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

হাতে কাজ করার সময় বৃদ্ধাঙ্গুলটি নাড়ালে কব্জিতে ব্যথা করে। এ সমস্যায় অনেকেই ভোগেন, বিশেষ করে মহিলারা। যার অন্যতম কারণ হল “ কব্জির রগ শক্ত হয়ে যাওয়া রোগ”, যেটাতে ডাক্তারি ভাষায় “ডি-কোয়ারভ্যান টেনো-সাইনোভাইটিস (ডি,টি)” বলা হয়।

ডি,টি কি ও কেন হয় ?

– আমাদের বৃদ্ধাঙ্গুলটি ভাঁজ ও সোজা করার জন্য হাতের মাংসপেশীর টেন্ডন/রগগুলো সাহায্য করে
– কব্জিতে রগগুলোর চারিদিকে পাতলা পর্দার আবরণ (টেন্ডন সিথ) থাকে
– এই সিথ বা পর্দাগুলো অনেক সময় প্রদাহের কারণে মোটা হয়ে শক্ত হয়ে যায়,
অনেকসময় ফুলে যায়
– ফলে পর্দার ভিতরে টেন্ডন/রগগুলোর চলাচল ব্যহত হয়
– যার কারণে বৃদ্ধাঙ্গুলটি ভাঁজ ও সোজা করা কষ্ট হয়

লক্ষণ সমূহ কি কি ?

– বৃদ্ধাঙ্গুলটি নাড়ালে কব্জিতে ব্যথা করে
– মাঝে মাঝে ব্যথা কব্জি থেকে উপরের দিকে উঠে
– হাত দিয়ে ভারী কিছু উঠানো যায় না
– অনেক সময় কব্জি ফুলে যায়
– কাজ করলে কব্জিতে ব্যথা বাড়ে
– বৃদ্ধাঙ্গুলটি বেশ র্দুবল হয়ে পড়ে
– মাঝে মাঝে বৃদ্ধাঙ্গুলটি নাড়ালে কব্জিতে “কড় কড়” শব্দ হয়

কারণ কি ?

– কব্জিতে আঘাত পেলে
– হঠৎ হাত দিয়ে ভারী কিছু উঠালে
-দীর্ঘক্ষণ কব্জি ব্যবহারের কাজ করলে
যেমনঃ লেখালেখি করা, বাচ্চা লালণ-পালণ করা, ড্রিল মেশনি চালানো, ছুরি দিয়ে কাটাকাটি করা ইত্যাদি
-কিছু রোগ তরান্বিত করে,
যেমনঃ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস

কারা ঝুকিতে আছেন ?

-পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এই সমস্যা বেশী হয়
-সাধারণত মধ্য বয়স্ক মহিলারা বেশি আক্রান্ত হন
যেমনঃ গর্ভাবস্থা, বাচ্চা লালণ-পালণ ইত্যাদি

কিভাবে রোগ নির্ণয় হয় ?
রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগের ইতিহাস জানা ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কর্তৃক হাতের শারীরিক কিছু পরীক্ষাই যথেষ্ট। তবে রোগটি নিশ্চিতকরন ও অন্যান্য রোগ থেকে আলাদা করার জন্য কিছু পরীক্ষা প্রয়োজন। যেমনঃ
– কিছু রক্ত পরীক্ষা
– কব্জির এক্স-রে
– কব্জির আলট্রাসাউণ্ড ইত্যাদি

চিকিৎসা কি ?

এ রোগের চিকিৎসার জন্য একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে সমন্বিত চিকিৎসা নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে ……

🟣 সতর্কতা
🟣 ওষুধ
🟣 ব্যায়াম
🟣 ফিজিক্যাল থেরাপি
🟣 অর্থোসিস
🟣 ইনজেকশন

সতর্কতাঃ
হাত দিয়ে ভারী কিছু না উঠানো
কাপড়-চোপড় না চিপা
একটানা বেশিক্ষণ লেখালেখি না করা, ইত্যাদি

ওষুধঃ
ব্যথানাশক ওষুধ- এন, এস, এ, আই, ডি

ব্যায়ামঃ
– নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কব্জিতে বৃদ্ধাঙ্গুলির রগের উপর ব্যথানাশক মলম দ্বারা ম্যাসাজ করা
– হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির রগের প্রসারণকরণ ব্যায়াম

ফিজিক্যাল থেরাপিঃ
– ফিজিওথেরাপির মধ্যে আলট্রাসাউন্ড থেরাপি ও শকওয়েভ থেরাপি বেশ কার্যকর

অর্থোসিসঃ
– কাজ করার সময় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির অবস্থান ঠিক রাখার জন্য কব্জিতে “থাম্ব স্প্লিন্ট” ব্যবহার করা যেতে পারে

ইনজেকশনঃ
– ব্যথা দীর্ঘমেয়াদি বা তীব্র হলে, অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে আলট্রাসাউন্ড মেশিনের মাধ্যমে কব্জিতে বৃদ্ধাঙ্গুলির টেন্ডন/রগের চারপাশে ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে।

রোগের পরিণতি কি ?
– সঠিক চিকিৎসা নিলে এ রোগ পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়
– উপরোক্ত চিকিৎসায় ভালো না হলে, অপারেশনের মাধ্যমে বৃদ্ধাঙ্গুলির যে স্থানে টেন্ডন/রগ নড়তে সমস্যা হচ্ছে সেটা ছাড়িয়ে দিতে হয়।

সম্পাদনায় ———————————————
ডাঃ মোঃ মাহফুজুর রহমান
এমবিবিএস; এফসিপিএস
বাত-ব্যথা, মেরুদন্ড-জয়েন্ট পেইন ও আর্থ্রাইটিস বিশেষজ্ঞ
কনসালটেন্ট, পার্কভিউ হসপিটাল প্রাঃ লিঃ চট্টগ্রাম
যোগাযোগঃ 01828 44 79 66


প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

Leave a reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>