টেনিস এলবো বা কনুই ব্যথা- নিরীহ টাইপের জটিল সমস্যা !!

টেনিস এলবো বা কনুই ব্যথা- নিরীহ টাইপের জটিল সমস্যা !!
প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

শক্ত করে মুঠ করে কাজ করলেই কনুই ব্যথা, একটি সাধারণ সমস্যা। মানুষ তার জীবনের কোন না কোন সময় এ ব্যথায় আক্রান্ত হন। ডাক্তারি পরিভাষায় এ রোগকে ল্যাটেরাল ইপিকন্ডালাইটিস বলে। ধারণা করা হতো, টেনিস খেলোয়াড়দের এটি বেশি হয় বলে, একে টেনিস এলবো বলে।

টেনিস এলবো কি ও কেন হয় ?

বাহুর হাড়ের নিচের প্রান্তের বাইরের অংশকে ল্যাটারাল ইপিকোনডাইল বলে। কনুইয়ের নিচের পেছনের পেশিগুলো এ স্থান থেকে উৎপত্তি হয়। কনুই ও হাতের কবজি বারবার পেছনে বাঁকা করে কাজ করলে, ঐ স্থানে আঘাত হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে এবং ব্যথা হয়। এই সমস্যাকেই ল্যাটারাল ইপিকোনডাইলাইটিস বা টেনিস এলবো বলে।

কাদের হয় ?

রোগটি টেনিস বল খেলার সঙ্গে নামকরণ ও সম্পর্কযুক্ত হলেও আমাদের দেশে কর্মজীবী নারী ও গৃহবধূরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

কারা ঝুঁকিতে আছে ?

# হাতুড়ি ও স্ক্রু ড্রাইভার ব্যবহারকারী

# পেইন্টার বা রং মিস্ত্রি

# টাইপিস্ট, স্টেনোগ্রাফার

# সাংসারিক কাজে ব্যস্ত নারী

# যারা আতিরিক্ত হাতের কাজ করে, যেমনঃ

ধোপা, গাছ কাটা, ইট ভাঙা, ধান কাটা

ইত্যাদি।

# টেনিস ও ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়

# অত্যধিক মোটরসাইকেল চালনাকারী।

# বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিস

যেমনঃ রিউমাটয়েড, গাউট ইত্যাদি

 

লক্ষণ সমুহ কি কি ?

* হাত দিয়ে কিছু তুলতে কনুইয়ে ব্যথা হয়

* ভেজা কাপড় মোচড়ানো, চামচ দিয়ে কিছু

নাড়ানো কষ্টকর হয়

* এমনকি করমর্দন করতেও অসুবিধা হয়

* ব্যথা কনুই থেকে শুরু হয়ে হাতের আঙুল

পর্যন্ত যেতে পারে

* কনুইয়ের বাইরের দিকে চাপ দিলে প্রচণ্ড

ব্যথা অনুভূত হয়

 

কিভাবে রোগ নির্ণয় করা হয় ?

রোগের ইতিহাস জানা এবং বিশেষজ্ঞ কর্তৃক নিজ হাতে কনুইয়ের শারীরিক পরীক্ষা করা জরুরী। এর সাথে নিশ্চিতকরণ ও অন্য রোগ থেকে আলাদা করার জন্য আরও আরও কিছু পরীক্ষা প্রয়োজন। যেমনঃ

# রক্ত পরীক্ষা

# কনুইয়ের এক্স-রে

# কনুইয়ের আল্ট্রাসনোগ্রাম ইত্যাদি

 

চিকিৎসা ও পরামর্শ কি ?

♣করণীয়ঃ

# হাতকে বিশ্রাম দেয়া ও দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরী

# কাজের সময় কনুইয়ের একটু নিচে “এলবো ব্যান্ড” লাগানো বেশ কার্যকরী

# গরম ভেজা সেঁক ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে উপকারী

# এ সময় ভারী কোনো কিছু ওঠানো বা মোচড়ানো যাবে না

# সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অবনতিকারক কাজ পরিহার করতে হবে

♣ঔষধঃ

রোগীর সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ঔষধের পরামর্শ দেয়া হয়।

যেমনঃ

ব্যথানাশক ঔষধঃ—প্যারাসিটামল, এন,এস,এ,আই,ডি ইত্যাদি।

 

♣ফিজিওথেরাপি:

এ রোগের চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি অন্যতম চিকিৎসা।

যেমনঃ

→আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি,

→শকওয়েভ থেরাপি,

→ডিপ ফ্রিকশন মেসেস থেরাপি ইত্যাদি

 

♣ইনজেকশন:

→কিছু ক্ষেত্রে প্রদাহের স্থানে ব্যথানাশক ইনজেকশন দেয়ারও প্রয়োজন হতে পারে।

→বর্তমানে আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনের মাধ্যমে এই কাজটি নিখুঁত ভাবে করা যায়।

*** সম্পাদনায় ***

ডাঃ মোঃ মাহফুজুর রহমান

এমবিবিএস, এফসিপিএস

ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

পার্কভিউ হসপিটাল প্রাঃ লিঃ, চট্টগ্রাম

যোগাযোগঃ ০১৩১২ ৩৯ ৫৬ ৩৮


প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

Leave a reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>