জন্ম নিবন্ধন এর জন্য আবেদন, যাচাই, সংশোধন ও ডিজিটালকরণ

জন্ম নিবন্ধন এর জন্য আবেদন, যাচাই, সংশোধন ও ডিজিটালকরণ
আপনার চেম্বার/হাসপাতাল/মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

(চট্টগ্রামের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছে যাক আপনার সেবার বার্তা)

প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

জন্ম নিবন্ধন কি ?

জন্ম নিবন্ধন হলো জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ২৯ নং আইন) এর আওতায় একজন মানুষের নাম, লিঙ্গ, জন্মের তারিখ ও স্থান, বাবা-মায়ের নাম, তাদের জাতীয়তা এবং স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত নিবন্ধক কর্তৃক রেজিস্টারে লেখা বা কম্পিউটারে এন্ট্রি প্রদান এবং জন্ম সনদ প্রদান করা। জন্ম নিবন্ধন আইনের বিধান অনুযায়ী এই বিধি লংঘনকারী নিবন্ধক বা ব্যক্তি অনধিক ৫০০ (পাঁচশত টাকা) অথবা অনধিক দুইমাস বিনাশ্রম কারাদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন।

জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ কেন ?

জন্ম নিবন্ধন হলো একটা মানুষের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। রাষ্ট্র এই ভাবে স্বীকার করছে যে, হ্যাঁ, তুমি শিশু রূপে এ রাষ্ট্রের একজন ভবিষ্যৎ নাগরিক হয়ে এসেছো। তোমাকে এ রাষ্ট্রের স্বীকৃত নাগরিকের মর্যাদা ও সকল সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।

১৯ টি কাজে বাক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন কার্ড প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলকঃ

১) পাসপোর্ট ইস্যু

২)স্কুলগুলে ভর্তি

৩) বিবাহ নিবন্ধন

৪) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি

৫) সরকারী, বেসরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগদান

৬) ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু

৭) ভোটার তালিকা প্রণয়ন

৮) জমি রেজিষ্ট্রেশন

৯) ব্যাংক একাউন্ট খোলা

১০) আমদানী বা রপ্তানী বা উভয় লাইসেন্স প্রাপ্তি

১১) গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সঙযোগ প্রাপ্তি

১২) করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) প্রাপ্তি

১৩) ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রাপ্তি

১৪) বাড়ির নক্সা অনুমোদন

১৫) গাড়ি রেজিষ্ট্রেশন

১৬) ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি

১৭) জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি

১৮) বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ

১৯) শিশু শ্রম প্রতিরোধ

 

কেন জন্ম নিবন্ধন করতে হবেঃ

জন্ম নিবন্ধনের একটি তাৎপর্য আছে। জন্ম নিবন্ধন হলো একটা মানুষের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। রাষ্ট্র এইভাবে স্বীকার করছে যে, হ্যাঁ,তুমি শিশু রূপে এ রাষ্ট্রের একজন ভবিষ্যৎ নাগরিক হয়ে এসেছো। তোমাকে এ রাষ্ট্রের স্বীকৃত নাগরিকের মর্যাদা ও সকল সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। তোমাকে স্বাগতম।
সুতরাং ভবিষ্যতে রাষ্ট্র থেকে যেকোনো সুযোগ-সুবিধা পেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও প্রতিষ্ঠিত মানুষ হওয়ার প্রয়োজনে জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন রয়েছে। জন্ম নিবন্ধন না করালে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া যায় না। মর্যাদা পাওয়া যায় না। সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। আইনগত সমস্যার সমাধান করা যায় না ইত্যাদি । এসব কারণে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে।

কখন জন্ম নিবন্ধন করতে হয় ?

আইন অনুসারে সদ্যজাত শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক। শিশু জন্মের ২ বছরের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন না করালে বাবা-মায়ের জন্য জরিমানা আছে।

জন্ম নিবন্ধন এর ফি বা খরচ কত ?

বয়স্ক ও শিশু উভয়ের বেলায় জন্ম নিবন্ধন এর জন্য মানুষকে উৎসাহিত করতে বিনা ফিতে সারাদেশে সরকার জন্ম নিবন্ধন কাজ করেছে।

জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের উর্ধব ব্যক্তিদের জন্য ৫০ টাকা ফি দিতে হয়।

জন্ম তারিখ থেকে ২ বছর পর জন্ম নিবন্ধন করতে ইউনিয়ন পরিষদদ ও পৌরসভা এলাকায় প্রতি বছরের জন্য ৫ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় প্রতি বছরের জন্য ১০ টাকা ফি দিতে হয়।

জন্ম সনদের ইংরেজী কপির জন্য ইউনিয়ন পরিষদদ ও পৌরসভা এলাকায় ৫০ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ১০০ টাকা ফি লাগে।

জন্ম সনদের বাংলা কপির জন্য ইউনিয়ন পরিষদদ ও পৌরসভা এলাকায় ২০ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ৪০ টাকা ফি লাগে।

তথ্য সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা এলাকায় ১০ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ২০ টাকা ফি লাগে।

জন্ম নিবন্ধনের জন্য কোথায়, কিভাবে আবেদন করতে হয় ?

জন্ম নিবন্ধনের জন্য আমরা যেসব জায়গায় যাবো তা নিম্নরুপঃ

১। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়

২। পৌরসভা

৩। সিটি কর্পোরেশন অফিস

৪। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ওয়ার্ড কমিশনারের অফিস

জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি কাগজপত্র লাগে বা সাথে নিতে হবে ?

জন্ম যদি কোন হাসপাতাল/ক্লিনিকে হয় তাহলে হাসপাতাল/ক্লিনিকের সার্টিফিকেট/ছাড়পত্র/এস.এস.সি সনদ এর ফটোকপি/ পাসপোর্টের ফটোকপি/আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং এলাকার জনপ্রতিনিধী যেমন-ওয়ার্ড কমিশনার/ ইউনিয়ন পরিষদ/ পৌরসভার চেয়ারম্যান কর্তৃক নাগরিকত্ব সনদ এর ফটোকপি।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন কিভাবে করব ?

নিবন্ধক কার্যালয়ের জন্য আপনার জন্ম স্থান বা স্থায়ী ঠিকানার বিভাগ, জেলা, প্রভৃতি ধাপ পার হয়ে ওয়ার্ড পর্যন্ত নির্বাচন করতে হবে। অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফরম প্রথমে বাংলায় (ইউনিকোড) ও পরবর্তীতে ইংরেজিতে পূরণের পর প্রয়োজনীয় সম্পাদনা করে সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করুন। সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করলেই আবেদন পত্রটি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে স্থানান্তিরত হয়ে যাবে, আবেদনকারীর আর কোন সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। অতঃপর পরবর্তী ধাপে প্রিন্ট বাটনে ক্লিক করলে আবেদন পত্রের মুদ্রিত কপি পাবেন। সনদের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত আবেদন পত্রে নির্দেশিত প্রত্যয়ন সংগ্রহ করে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপিসহ নিবন্ধক অফিসে যোগাযোগ করুন। (http://bris.lgd.gov.bd/pub/)

জন্ম নিবন্ধন কিভাবে সংশোধন করা যায় ?

# আপনার পিতা/মাতার নাম সংশোধন করতে হলে, নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন।

# যদি আপনার পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর থাকে, তাহলে তাদের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন করে তাদের নাম সংশোধন করে আসতে হবে। এরপর যদি আপনার জন্ম নিবন্ধন করার সময় আপনার পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে থাকেন, তবে তাদের নাম সংশোধন করার পর আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনর্মুদ্রণ করলে সেখানে পিতা/মাতার সংশোধিত নাম দেখা যাবে। আর যদি আপনার জন্ম নিবন্ধন করার সময় আপনার পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর না দিয়ে থাকেন, তবে আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বরের সাথে পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ম্যাপ করতে হবে। পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ম্যাপ করার পর আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনর্মুদ্রণ করলে, সেখানে পিতা/মাতার সংশোধিত নাম দেখা যাবে।

# যদি আপনার পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর না থাকে এবং আপনার জন্ম তারিখ 01/01/2001 এর পূর্বে হয়, তবে আপনার জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন করার সময় আপনার পিতা/মাতার নাম সংশোধন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার পিতা/মাতা মৃত হলেও তাদের মৃত্যুর কোন প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে না।

# যদি আপনার পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর না থাকে এবং আপনার পিতা/মাতা মৃত হয় এবং আপনার জন্ম তারিখ 01/01/2001 এর পরে হয়, তবে আপনার জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন করার সময় আপনার পিতা/মাতার নাম সংশোধন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার পিতা/মাতার মৃত্যুর প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। (https://bdris.gov.bd/br/correction )

 

কিভাবে জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার আবেদন করতে হবে ?

বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেরশ গড়ার লক্ষে সকল হাতে লিখা জন্ম সনদ অনলাইন ভুক্ত করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইন সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে। হাতে লিখা জন্ম সনদ অচল ঘোষনা করা হয়েছে। তাই আপনার হাতে লিখা জন্ম সনদ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে আসুন এবং আপনার ও আপনার পরিবারের সকলের জন্ম সনদ এর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট নিন।

Data Source:

https://bdris.gov.bd/

http://forms.mygov.bd/

 


প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

Leave a reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>