ভারতের ষড়যন্ত্রের কারণে বাংলাদেশের ডাক্তাররা যে রোগের সম্মুখীন হচ্ছেন

ভারতের ষড়যন্ত্রের কারণে বাংলাদেশের ডাক্তাররা যে রোগের সম্মুখীন হচ্ছেন
আপনার চেম্বার/হাসপাতাল/মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

(চট্টগ্রামের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছে যাক আপনার সেবার বার্তা)

প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

বর্তমানে বাংলাদেশী ডাক্তারদের যে অবস্থা হয়েছে, সেটাকে বলা হয় “কনজিওমড প্লেগ” (Consumed Plague) I
জিনিসটা কি একটু বুঝিয়ে বলি।

“প্লেগ” কি রোগ সেটাতো নিশ্চয়ই জানেন।
পৃথিবীতে একসময় প্লেগ ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর মহামারী রোগ।
এই রোগকে মানুষ সেই সময় প্রচন্ড ভয় পেতো I এই ভয়ের কারন এই নয় যে, এই রোগটির কোন চিকিৎসা নেই।

মূল ভয়টি ছিল অন্য দুইটি কারন—–
প্রথমতঃ রোগটি দেখতে খুব ভয়ংকর ও বিশ্রী। শরীর থেকে মাংস পঁচে গলে পড়তো।
দ্বিতীয় কারণটি হলো, মানুষ যদি জানতে পারতো কারো প্লেগ হয়েছে, তবে অন্য সবাই তাকে ধরে এনে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলতো।
এই কারণে প্লেগ হলে সমাজ থেকে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর বিকল্প কোন পথ ছিল না।

নিজেকে একবার সেই সময়ে চিন্তা করুন,
মনে করুন, আপনাকে এসে কেউ একজন বললো ,
“তোমার প্লেগ হয়েছে”
আপনি প্রথমেই ভয় পেয়ে যাবেন।

পরে যখন বুঝতে পারবেন, আসলে আপনার প্লেগ হয়নি, তখন আপনি ঐ লোকটিকে গিয়ে বলবেন,
“না আমার প্লেগ হয়নি”

সে বলবে,

“তোমার পিঠে প্লেগ আছে, তুমি দেখতেছোনা”

আপনি বাসায় গিয়ে আয়নায় দেখার চেষ্টা করবেন।

বউকে বলবেন, “দেখতো আমার পিঠে কিছু আছে কিনা”

কিছুই খুঁজে না পাওয়া গেলে আপনি আবার ঐ লোকটিকে গিয়ে বলবেন,

“না , আমার পিঠে কিছু নেই ”

সে বলবে, “তোমার পেটের মধ্যে প্লেগ আছে, বাইরে থেকে দেখা যায় না ”

এইবার আপনি আরো বিতর্ক করলেন , জোর দিয়ে বললেন, আপনার মোটেই প্লেগ নেই।

সে বলবে, “গিয়ে দেখো তোমার ভাইয়ের প্লেগ আছে I”

আপনি এইবার ভাইয়ের বাসায় যাবেন , ভাইয়ের কাপড় খুলে দেখবেন তার আসলেই প্লেগ আছে কিনা।

এইভাবে চলতেই থাকবে I

আপনি যতই বুঝানোর চেষ্টা করবেন, ততই সে আপনাকে প্লেগ নিয়ে ব্যস্ত রাখবে।

এই প্লেগ চক্র থেকে আপনি একটা সময় আর বের হতে পারবেন না।

একসময় আপনি এই প্লেগের ভয় নিয়েই বাঁচতে শিখবেন।

এক পর্যায়ে আপনি বাধ্য হয়ে এই প্লেগকে গ্রহণ করে নিবেন।

এই জাতীয় প্লেগকেই আধুনিক সমাজ বিজ্ঞানীদের ভাষায়, “Consumed Plague” বলা হয়।

কেন বলছি এই কথা ?

এই যে বাংলাদেশের মিডিয়া প্রতিদিন

নিউজ করে,
“ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু ”
“ইনজেকশন দেয়ার পর রোগীর চিরনিদ্রা”
এইটি এক ধরণের প্লেগ ছড়ানো।

চিকিৎসা ভুল নাকি সঠিক এইটি একমাত্র অন্য একজন চিকিৎসকই বলতে পারবেন I একজন সাংবাদিক ও পুলিশের কোন ভাবেই সেটি জানা সম্ভব নয়, তবুও তারা এই নিউজটি বার বার করছেন।

কেন করছেন ?

কারন মিডিয়া মনে করছে, এই ভাবে নিউজ করে তারা জাতির উপকার করছেন ?

ডাক্তারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্বি করছেন ?

কিন্তু আসলে ব্যাপারটি ভুল।

তারা বরং ডাক্তারদের মধ্যে এক ধরণের হতাশা ও ভয় সৃষ্টি করছেন।

আর রোগীদের এই সব নিউজ দেখে দেখে ডাক্তারদের উপর এক জাতীয় ক্ষোভ ও সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে।

এখন তারা সব ডাক্তারকেই অদক্ষ ও অসৎ ভাবছে।

অথচ বাস্তবে সেটি সত্য নয়।

 

কিছু ডাক্তার দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে আছেন সেটি অবশ্যই সত্যি কিন্তু তাই বলে ঢালাও ভাবে সবাইকে অসৎ ভাবাটাই হলো রোগীদের জন্য ক্ষতিকর ও বোকামি।

এতে করে ডাক্তার ও রোগীদের সম্পর্ক ও বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়।

ভালো চিকিৎসার জন্য এই সু-সম্পর্কটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

দেশের মিডিয়া সেটাই ধ্বংস করে দিচ্ছেন।

এবং এই সুযোগটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত নিয়ে নিচ্ছে I ইন্ডিয়ান হেলথ ট্যুরিজম নামে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

এতে করে রাষ্ট্র অনেক বড় ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে।

সুতরাং মিডিয়া যা ভাবছে সেটি সত্যি নয়।

তারা বরং রাষ্ট্রের ক্ষতি করছেন।

মানুষের মনে এক ধরণের প্লেগের মত ভয় সৃষ্টি করছেন।

মিডিয়ার এই কাজটিকে আধুনিক সমাজ বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন,

“Intellectual Prostitution”

পতিতা সব সময় মনে করে সে মানুষকে আনন্দ ও বিনোদন দিয়ে যাচ্ছে

কিন্তু সে জানেনা , তার অসাবধানতার কারণে সিফিলিস ও গনোরিয়ার মত ভয়ানক রোগ সমাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এখন যেমন করেই হউক ,এই চক্র দেখে ডাক্তারদেরকে বের হয়ে আসতে হবে।

শুধু নিজেদের স্বার্থে নয় , দেশ ও দেশের মানুষের কল্যানে একটা পথ খুঁজে বের করতে হবে I

আমি একটা পথের কথা বলতে পারি।

দেশের সব ডাক্তারগন নিজেদের সব রাজনৌতিক ও আদর্শিক মতাদর্শ ভুলে, দালালি ও গ্রুপিং এড়িয়ে সবাইকে এক হয়ে একটা দাবি নিয়ে আগাতে পারেন।

সেটা হলো,কোনো রোগীর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ কিংবা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন অপরাধের সঠিক তদন্ত ও আইনি নিস্পত্তি হওয়ার আগে দেশের কোন মিডিয়া (পত্রিকা ও টি ভি ) স্বাস্থ মন্ত্রণালয় এবং বি এম ডি সি র অনুমতি ছাড়া ঐ চিকিৎসককে নিয়ে কোন নিউজ করতে পারবেনা।

যদি কেউ করে, তবে সেটি বে-আইনি ও শ্বাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হবে।

আমি প্রায় এক যুগ হলো অস্ট্রেলিয়াতে আছি, আজ পর্যন্ত মিডিয়াতে কোন প্রমান ছাড়া কেউ এই জাতীয় নিউজ করতে দেখিনি।

কোন সভ্য দেশে এমনটি ভাবাও যায়না।

ডাক্তার মামুন হয়তো নিরাপরাধ হিসাবে একদিন বের হয়ে আসবেন কিন্তু তিনি যে সন্মান ও স্বপ্ন হারালেন , সেটি কি এই রাষ্ট্র আবার ফিরিয়ে দিতে পারবে ?

আর সময় নেই  দেশের ডাক্তারদেরকে এই ভয়াবহ ও ছোঁয়াচে প্লেগ আরো ছড়িয়ে যাওয়ার আগেই দমন করার চেষ্টা করতে হবে।

লেখকঃ মেলবোর্ন , অস্ট্রেলিয়া
২২/১১/২০২০


প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

Leave a reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>