হাঁটু ব্যথার আধুনিক চিকিৎসা “পি.আর.পি” (PRP Therapy) থেরাপি

by isk 0 Comments
হাঁটু ব্যথার আধুনিক চিকিৎসা “পি.আর.পি” (PRP Therapy) থেরাপি
আপনার চেম্বার/হাসপাতাল/মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

(চট্টগ্রামের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছে যাক আপনার সেবার বার্তা)

প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

প্রায়ই দেখা যায় হাঁটু ব্যাথার কারণে বয়স্কদের হাঁটাচলায় কষ্ট হয়। দিন দিন চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার প্রবণতাও বাড়ছে। যার অন্যতম কারণ হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা বয়সজনিত ক্ষয়বাত। বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকেরা পিআরপি (প্লেটিলেট রিচ প্লাজমা) থেরাপির মাধ্যমে হাঁটু ব্যথার দীর্ঘস্থায়ী উপশম অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।

পেনিস ক্যালকুলেটরঃ জেনে নিন আপনার কি অবস্থা

তাই আসুন জেনে নিই হাঁটু ব্যাথায় পিআরপি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উত্তর ……………

প্রশ্ন : হাঁটুর বয়সজনিত ক্ষয়বাত বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস কী ?
উত্তর : বয়স্কদের হাঁটুর অস্থি (হাড়) ও তরুণাস্থি (নরম হাড়) গুলোতে ক্ষয়ের কারণে গঠনগত পরিবর্তন হয়ে যে রোগ হয়, তাকেই হাঁটুর বয়সজনিত ক্ষয়বাত বা হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস বলে।

প্রশ্ন : কারা ঝুঁকিতে আছে ?
উত্তর : যাদের বয়স ৫০ এর অধিক, পুরুষের তুলনায় মহিলাদের বেশি হয়।

প্রশ্ন : পি.আর.পি থেরাপি (প্লেটিলেট রিচ প্লাজমা) কি ?
উত্তর : রোগীর শরীরের নিজস্ব রক্ত হতে বিশেষ পদ্ধতিতে সেন্ট্রিফিউজ/ঘূর্ণন মেশিনের মাধ্যমে প্লেটলেট বা অনুচক্রিকার স্তর আলাদা করা হয়, যে স্তরে প্রচুর গ্রোথ ফ্যাক্টর(উৎপাদনকারী পদার্থ) থাকে। গ্রোথ ফ্যাক্টর সম্ম্রদ্ধ অনুচক্রিকার এই স্তরটিকে বলা হয় পি.আর.পি (প্লেটিলেট রিচ প্লাজমা)

প্রশ্ন : কীভাবে হাঁটুর ক্ষয়বাত বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসে পিআরপি চিকিৎসা করা হয় ?
উত্তর : প্রথমে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হয়, হাঁটুর ক্ষয়বাত বা অস্টিওআরথ্রাইটিস রোগটি কোন পর্যায়ে আছে। এর ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা দেয়া হয়। মূলত রোগীর শরীর থেকে রক্ত নেয়া হয়, এরপর রক্ত থেকে পিআরপি আলাদা করে এটিকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে হাঁটুর ভিতরে
দেয়া হয়।

প্রশ্ন : হাঁটু ব্যাথায় পিআরপি থেরাপি কিভাবে কাজ করে ?
উত্তরঃ প্লেটিলেট বা অনুচক্রিকা হল গ্রোথ ফেক্টরে পরিপূর্ণ একটি কোষ। যখন কোন জায়গায় ক্ষত হয়, তখন এই প্লেটলেট এসে ক্ষত জায়গায় জড়ো হয়। তারপর প্লেটলেট বেশ কিছু সংখ্যক গ্রোথ ফেক্টর ছেড়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা লক্ষ করলেন, যদি এই প্লেটলেট আমরা আক্রান্ত হাঁটুর ভিতরে বেশী পরিমাণে দেয়া যায়, তাহলে বেশী পরিমাণে গ্রোথ ফেক্টর পাওয়া যাবে। যা হাঁটুর তরুণাস্থি বা নরম হাড়ের ক্ষয় পূরণে অনেক সাহায্য করবে।

প্রশ্ন : হাঁটুতে পি,আর,পি ইঞ্জেকশন কতবার দেওয়া উচিত ?
উত্তর: সাধারণত ছয় মাস সময়সীমার মধ্যে তিনটি পিআরপি পর্যন্ত ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে।

প্রশ্ন : কতদিন পর পর পি,আর,পি ইঞ্জেকশনগুলো দেওয়া হয় ?
উত্তর: সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর পর দেওয়া হয়।

প্রশ্ন : হাঁটুর ক্ষয়বাতের চিকিৎসায় পি,আর,পি কতটুকু কার্যকরী ?
উত্তর: সাধারণত পি,আর,পি থেরাপি নেয়ার ছয় থেকে নয় মাস পর এর পরিপূর্ণ ফল পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন, হাঁটুর তরুনাস্তি/নরম হাড়ের ক্ষয় পূরণ ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা কমানোর জন্য পি,আর,পি থেরাপি খুবই কার্যকর।

পি.আর.পি থেরাপির কি বিশ্বস্বীকৃত ?
হ্যা,আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোতে সফলতার সাথে হাঁটু ক্ষয়বাতের চিকিৎসায় পিআরপি থেরাপি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

**🔹🔹সম্পাদনায়🔹🔹**

ডাঃ মোঃ মাহফুজুর রহমান
এমবিবিএস
এফসিপিএস (ফিজিক্যাল মেডিসিন)
এফডিপিসি (পেইন ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডিয়া)
কনসালটেন্ট, পার্কভিউ হসপিটাল প্রাঃ লিঃ, চট্টগ্রাম
যোগাযোগঃ ০১৮২৮ ৪৪৭৯৬৬


প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

Leave a reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>