Category Archives

3 Articles

প্রাইভেট হাসপাতালে সেবা নেয়ার যত নিয়ম

প্রাইভেট হাসপাতালে সেবা নেয়ার যত নিয়ম

বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বা শরীরের চেকআপের জন্য আমরা হাসপাতালে যাই।এর মধ্যে আমরা অনেকেই সরকারীর চেয়ে বেসরকারী তথা প্রাইভেট হাসপাতালে যেতে পছন্দ করি।

সেখানে সবাই কথা শুনে,সবদিকে পরিষ্কার এসব ভালো লাগে তবে এসবের জন্য ভালো দাম পরিশোধ করতে হয়।প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিন,তবে সব কিছু তাদের হাতে ছেড়ে দিবেন না,টাকা ও রোগীর জান দুটোই যাবে।

 

# যদি এক্সট্রিম ইমার্জেন্সিতে না পড়েন, তাহলে ভর্তি হওয়ার আগে কেবিন ভাড়া,সার্ভিস চার্জ,অনকলে কোন কোন প্রফেসর আসে,জেনে নিন।

# যে হাসপাতাল গুলো ট্রাস্টের তৈরী সেগুলো খরচ কম পড়ে।

# ভর্তি হওয়ার পর ডিউটি ডাক্তার ও নার্স রুমের নাম্বার জেনে নিন।

# গাইনী রোগীর ক্ষেত্রে লেবার রুম,অপারেশন রুম ও ব্লাড ট্রান্সফিউশনের সুবিধা আছে কিনা জেনে নিবেন।সাথে NICU থাকলে আরো ভালো।

# নরমাল ডেলিভারি ও সিজারিয়ান কত ঠিক করে নিবেন।সিজার যদি করাতেই হয় তবে ছোট ক্লিনিকে না করানোই উত্তম।

# সার্জারীর জন্য ভর্তি হলে কেবিন ভাড়া ও ঔষধপত্রের খরচ সব ঠিক করে নিবেন

# অপারেশন এর পরে ঔষধ যা লাগবে না,তা ফেরত নেবার ব্যাপারে আগে কথা বলে নিবেন।

# ১ দিন পর পর বিল চেক করুন

# অন কল প্রফেসর এর ক্ষেত্রে আপনাদের পছন্দ থাকলে তা জানিয়ে দিন।

# ল্যাবটেস্ট স্পেশাল কাউকে দিয়ে করাতে চাইলে তাও জানিয়ে দিন।

# ছোট ছোট হাসপাতালের ল্যাব টেস্ট গুলোর মান যাচ্ছেতাই। খেয়াল রাখুন।

# কেবিন নেয়ার ক্ষেত্রে নন-এসি কেবিনকে প্রাধান্য দিন।রোগীর জন্য এটিই উপযোগী।

# হাসপাতালে ক্যান্টিন সু-ব্যবস্থা আছে কিনা জেনে নিবেন।

# বিল হাতে পাওয়ার পর সবকিছু চেক করুন, কোনটা ২ বার লিখা হয়েছে কিনা এবং নিজে একবার যোগ করুন।

# বিল কমাতে চাইলে সরাসরি এমডি বা ম্যানেজারের সাথে দেখা করুন।

# ডিসচার্জ হওয়ার আগে ঔষধ ও রোগীর যত্ন সবকিছু বুঝে নিন।

 

প্রাইভেট হাসপাতালে যা যা আপনি পাবেন নাঃ

# সব সময় সিনিয়র ডাক্তার থাকে,প্রফেসর তো নয় ই!

# ডিউটি ডাক্তার থাকে কিন্তু ইমার্জেন্সিতে তাদের ডিসিশান দেয়ার ক্ষমতা থাকে না।

সর্তকতাঃ 

# আপনার রোগী যদি মারা যায় তবে এটা ভাববেন না।হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট এর কারণে মারা গেছে।যদি সংগত কারণ থাকে,তবে বিএমএ ভবনে গিয়ে লিখিত বিচার দিন এবং তার একটি কপি নিজের কাছে রাখুন।

# কোন ধরণের ভাংচুর করবেন না।এটা আপনাদের মিথ্যা প্রমাণিত করবে।

তবে,চট্টগ্রামের জন্য এখনো প্রাইভেট ক্লিনিকের চেয়ে সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসা তুলনামূলক ভালো।

সুতরাং অসুখ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন।

সরকারী হাসপাতালে সেবা নেয়ার যত নিয়ম

সরকারী হাসপাতালে সেবা নেয়ার যত নিয়ম
Hospital Rules

সরকারী হাসপাতাল সব সময় রোগী দিয়ে পরিপূর্ণ। সক্ষমতার চেয়েও বেশী রোগীকে সেবা দিতে হয় প্রতিদিন।অথচ লোকবল ও সরঞ্জাম একই।যার কারণে সবার দিয়ে একই সময়ে মনযোগ দেয়া কঠিন।তাই হাসপাতালের নিয়মকানুন যদি আমরা আগেই জেনে রাখি তাহলে অল্প সময়ে চিকিৎসা সেবা পাবো এবং আমাদের বিভ্রান্তিতেও পড়তে হবে না।কর্মরতদের সাথে ভুল বুঝাবুঝিও হবে না।

১) রোগীকে প্রথমে ইমাজেন্সি বিভাগে নেয়ার পর তার ডায়াগনোসিস এর উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়।রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে ট্রলি বা লিফট লাগবে কিনা।

চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় অবহেলা সন্দেহ, কি করা উচিত?

২) নির্দিস্ট রুমে যাওয়ার পর সেখানে আগে “নার্স”দের রুমে যাবেন।রোগী রিসিভ করাবেন।রোগীর নাম,ঠিকানা ইত্যাদি লিপিবদ্ধ করার পর চিকিৎসাপত্রের জন্য একটি কাগজ দেয়া হবে।সেটা নিয়ে ডিউটি ডাক্তার রুমে যাবেন।

৩) ডাক্তারদের রুমে রোগীর সাথে একজন থাকবেন যিনি রোগী ও রোগীর স র্ম্পকে ধারনা রাখেন।ডাক্তার রোগী দেখে আপনাকে ঔষধের জন্য বলতে পারে।অনেক ঔষধ হাডপাতালে সাপ্লাই থাকে না।বাইরে থেকে নিতে হবে।

৪) হাসপাতালে রোগী নিয়ে রোগীর সাথে ৩ জন থাকা ভালো।একজন ঔষধ আনতে যাবেন একজন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাবেন একজন রোগীর সাথে থাকবেন

৫) সব ধরনের টেস্ট হাসপাতালে হয়।মাঝে মাঝে কিছু হয় না।সেগুলো বাইরের ভলো ল্যাব থেকে করাবেন। না হয় প্রফেসর আবার রিপিট করতে পারে।

৬) ঔষধ নিয়ে আসার পর ভর্তির কাগজসহ নার্সের রুমে যাবেন।নাস চিকিৎসা পত্র দেখে ঔষধ দিয়ে দিবেন।ঔষধ সংক্রান্ত সব কাজ নার্সদের।

৭) স্যালাইন দেয়া,ইনজেকশন দেয়া এসব কাজ নার্সদের।

হাসপাতালে সমাজসেবা বিভাগের কার্যক্রমের কাজ কি?

৮) ডিউটি ডাক্তার রোগীর শারীরিক ও আর্থিক অবস্থা র উপর ভিত্তি করে যে কোম্পানির ড্রাগ দিবে সেটাই কিনার চেষ্টা করবেন।

৯)ডাক্তার প্রেসক্রাইভ করেছে দোকানে ঔষধ পান নাই,বিকল্প ঔষধ কেনার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন।

১০) নার্স/ব্রাদার সময়মত ঔষধ দিলো কিনা খেয়াল রাখবেন।সময় হলে তাদের জানাবেন।

১১) হাসপাতালে প্রতিদিন ২.৩০ টা পর্যন্ত প্রফেসররা থাকেন। এসময় রোগীর চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু জানার থাকলে কথা বলতে পারবেন।

১২) রোগীর অবস্থা খারাপ হলে নার্ভাস হবেন না।ডিউটি ডাক্তারকে ডেকে আনুন।হইচই করে চিকিৎসার ব্যাঘাত করবেন না।

১৩) ডেলিভারি রুমে পুরুষ ডাক্তার থাকবে বা থাকতে পারে এ নিয়ে লজ্জিত হবেন না।সব রোগীকে চিকিৎসকরা “মা” হিসেবে দেখেন।

১৪) “দালাল” থেকে ১০০ হাত দূরে থাকব।

ল্যাবে রক্ত পরীক্ষা করার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা উচিত

নার্স,ব্রাদার, ইন্টার্ন ডাক্তার, প্রফেসর সবাইকে যার যার প্রাপ্য সম্মান দিবেন।প্রত্যেকের কাজের মূল্য রয়েছে।কাউকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই।
ইন্টার্ন ডাক্তার তার সাধ্যমত রোগীর সেবা দিবে,তারা না পারলে ইনডোর মেডিকেল অফিসাররা দিবেন, তারা না পারলে প্রফেসররা দিবেন।সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা ডাক্তাররা আপনার সেবায় নিয়োজিত।
আমার এবং আপনার সম্মিলিত সহযোগীতাই চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে।

নার্স,ব্রাদার, ইন্টার্ন ডাক্তার, প্রফেসর সবাইকে যার যার প্রাপ্য সম্মান দিবেন।প্রত্যেকের কাজের মূল্য রয়েছে।কাউকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই।ইন্টার্ন ডাক্তার তার সাধ্যমত রোগীর সেবা দিবে,তারা না পারলে ইনডোর মেডিকেল অফিসাররা দিবেন, তারা না পারলে প্রফেসররা দিবেন।সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা ডাক্তাররা আপনার সেবায় নিয়োজিত।আমার এবং আপনার সম্মিলিত সহযোগীতাই চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে।

হাসপাতাল দ্বারা ইনফেক্টেড হওয়া এড়াতে চাইলে, মেনে চলুন ১০ টি নিয়ম

হাসপাতাল দ্বারা ইনফেক্টেড হওয়া এড়াতে চাইলে, মেনে চলুন ১০ টি নিয়ম

If you want to avoid being infected by Hospital, follow 10 rules 

আমাদের জীবনে কম-বেশী সবারই হাসপাতাল যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। হোক সে নিজের জন্য অথবা অন্য কারো জন্য। আমরা হাসপাতাল যাই সুস্থ হবার জন্য এটা যেমন১০০% সঠিক,তেমনি হাসপাতাল থেকে আমাদের অসুস্থ হবার সম্ভাবনা ১০০% সঠিক। হাসপাতাল বা ক্লিনিক সব সময় অসুস্থ মানুষ ও এক্টিভ অর্গানিজম দ্বারা পরিপূর্ণ।আমাদের দেশে হাসপাতালে যারা রোগী দেখতে যান তাদের জন্য কোন গাইডলাইন থাকে না।হাসপাতাল গুলোতে নেই কোন “মিনিমাম ইকফেকশন কন্ট্রোল” প্রোগ্রাম। সত্যিটা হচ্ছে এই,আমরা নিজেদের অগোচরে হাসপাতাল থেকে যে কোন রোগের জীবাণু নিয়ে আসি এবং নিজে অসুস্থ হই।নয়তো নিজে ক্যারিয়ার(carrier) হিসেবে ব্যবহৃএ হয়ে আপনজনকে ইনফেক্টেড করি।

প্রস্রাবের রং দেখে রোগ সর্ম্পকে জানুন

আসুন বাঁচার জন্য নিচের নিয়ম গুলো জেনে নিই এবং নিজের জীবনে প্রয়োগ করি।

১) রোগী রুমে ঢুকার আগে মাস্ক,গ্লোভস ও গাউন পরিধান করি।

২) যে যে অবস্থায় অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে:

# রোগীর রুমে ঢুকার আগে ও পরে

# রোগীকে স্পর্শ করার পরে

# বাথরুম ব্যবহার করার পরে

# গ্লোভস পরার আগে ও পরে

২) নিজের মুখমন্ডল হাসপাতলে থাকাকালীন স্পর্শ না করাই উত্তম।কারণ মুখমন্ডলের চামড়া খুবই নরম ও সেনসিটিভ। মুখমন্ডলে থেকে জার্ম মুখের ভিতরে ও খাদ্যনালীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৩) যদি নিজে অসুস্থ হোন, তবে কোনভাবেই হাসপাতাল ভিজিট করা যাবে না।

৪) রোগীর গায়ে হাত দেয়া,চুমু খাওয়া ইত্যাদি না করাই উত্তম।

৫) রোগীর পরিধানের কাপড় সাময়িক ভাবে হলেও ব্যবহার করা যাবে না।

৬) রোগীর স্যালাইন সেট,বেড প্যান,ক্যাথেটার ইত্যাদি ধরা যাবে না।

৭) রুমে ডাস্টবিন থাকলে বা শার্ফ কাটার থাকলে, তার আশে-পাশে যাওয়া যাবে না।

কফের রং দেখে রোগ সর্ম্পকে জানুন

৮) অতিবৃদ্ধ ও একদম ছোট শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অনুচিত।

৯) ডাক্তার,নার্স ও টেকনোলজিস্ট যখন কাজ করেন তখন একটু দূরত্বে থাকবেন।কারণ “নিডল প্রিকিং” ও “ক্রস ইনফেকশন” হেলথ সেক্টরে কমন ঘটনা।আপনি আহত হতে পারেন এবং যদি স্যাম্পল কালেকশন নিডল হয় তবে আপনিও ইনফেক্টেড হতে পারেন।

১০)  খাওয়ার জন্য হাসপাতাল কতৃক দেয়া গ্লাস -প্লেট ব্যবহার না করাই ভালো।

১১) হাসপাতালে গিয়ে কিছু খাবেন না এবং থেকে যাওয়া ফলমূল বা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য বাড়ীতে আনবেন না।

পায়খানার সাথে রক্ত যায় কেন
Don`t copy text!