A Leading Doctor Chamber information Site In Chittagong

kk
4
22
a5
a3
2
5
dr3 (1)

ক্যারিয়ার নাকি সন্তান ধারণ-কোনটিকে প্রায়োরিটি দেওয়া উচিত ?

ক্যারিয়ার নাকি সন্তান ধারণ? কোনটিকে প্রায়োরিটি দেওয়া উচিত-এই নিয়ে বর্তমানের কর্মজীবী নারীরা অনেক দ্বিধান্বিত থাকেন।

অনেক সময়ই তারা বিভিন্ন লজিক্যাল কারনে ক্যারিয়ার গোছাতে গিয়ে বাচ্চা নিতে দেরি করে ফেলেন। কিন্তু প্রকৃতি লজিক মানে না, সে চলে তার আপন নিয়মে। ফলে একটা বয়সের পরে বেবি কনসিভের ক্ষেত্রে অনেক ঝামেলা দেখা দেয়। এমনই একটি সমস্যা হচ্ছে Early ovarian aging(EOA), যেখানে ওভারি সময়ের আগেই বুড়িয়ে যেতে থাকে। এর কারন ওভারির ডিম্বাণু সংখ্যা একই বয়সের অন্যদের তুলনায় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত কমে যায়। শতকরা 10 জন নারী এই সমস্যায় ভুগতে পারেন।

ছাত্রজীবনে বিয়ে কি আসলেই ক্যারিয়ারের ক্ষতি করে ?

এই সমস্যাটি অনেকটা premature ovarian insufficiency(POI) এর মত, তবে পার্থক্য হল POI এ ৪০ বছরের আগেই মহিলাদের মেনোপজ হয়ে যায়। অপরদিকে এখানে রোগীরা প্রথম দিকে আ্যসিম্পটোমেটিক থাকে, মাসিক রেগুলার হয়। কিন্তু কনসিভ করার ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় দেরি হয়। দেখা গেছে যারা সাব-ফার্টিলিটি সমস্যায় ভুগছেন তাদের মধ্যে ২০% ক্ষেত্রে EOA থাকতে পারে। এদের অধিকাংশই ৪৫ বছরের আগে মেনোপজে পৌঁছায়।

তবে আশার কথা এই যে বয়স কম থাকলে কনসিভের সাকসেস রেট ভালো থাকে, এমনকি আইভিএফ করলেও ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে একই ওভারিয়ান রিজার্ভ থাকা সত্বেও অধিক বয়সী নারীদের চেয়ে অল্প বয়সী নারীদের প্রেগন্যান্সি রেট ভালো থাকে এবং মিসক্যারেজ রেট কম। এর কারণ ডিম্বাণুর কোয়ালিটি বয়স ৩০ এর পর থেকে কমতে থাকে। এজন্য আগে থেকেই এই সমস্যা ডায়াগনোসিস হলে এবং সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে ভালো ফলাফল আশা করা যায়।

যেহেতু সারাবিশ্বেই দেরিতে সন্তান ধারণের প্রবনতা বেড়ে গেছে তাই এই সমস্যাটি ক্লিনিশিয়ান এবং পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞদের মনোযোগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

 

এখন কথা হলো কীভাবে আমরা ওভারিয়ান রিজার্ভ সম্পর্কে ধারণা পাব ?

ওভারিয়ান রিজার্ভ স্ক্রীনিং এর জন্য FSH,AMH, AFC টেস্ট করা হয়। নিচের প্যারামিটার গুলো ইন্ডিকেট করে ওভারির রিজার্ভ খুব দ্রুত কমে যাচ্ছেঃ
FSH 10-20 IU/L
AMH <5 pmol/l
AFC(antral follicular count) < 4

বয়স ৩০ এর পরের বিয়েতে নারীদের বাচ্চা নিতে কি সমস্যা হতে পারে ?

সবশেষে আসি এই সমস্যার পেছনের কিছু কারণ নিয়ে। বিভিন্ন ধরনের ফ্যাক্টর ওভারিয়ান রিজার্ভ কমে যাবার জন্য দায়ী।

# অটোইমিউন ডিজিজ যেমন থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা,

# পিআইডি/ ইনফেকশন,

# এন্ডোমেট্রিওসিস,

# ওবেসিটি/স্থূলতা

# দারিদ্র্যতা

# ধূমপান /স্মোকিং,

কিছু কিছু মেডিসিন, কেমোথেরাপি রেডিও থেরাপি ইত্যাদি।

একজন নারীর ওভারিয়ান রিজার্ভ নির্ভর করে মূলত জেনেটিক গঠনের উপরে, তারপরেও পরিবেশ এবং নিউট্রিশন একটি বড় ভূমিকা রাখে। The Royal college of obstetricians and gynaecologsts(UK) এই সমস্যা প্রতিরোধের জন্য young couple দের সচেতন করা এবং স্কুলের পাঠ্যসূচিতে ফার্টিলিটি বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে জোর দিচ্ছে। দেখা গেছে এন্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমানোর গেলে ওভারিকে কিছুটা রক্ষা করতে পারে।

Data Source:
The obstetriciaan & gynecologist (TOG), 2019.

ডা. নুসরাত জাহান
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর (গাইনী)
খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ, সিরাজগঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *