ল্যাবে রক্ত পরীক্ষা (Blood Test) করার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা উচিত

ল্যাবে রক্ত পরীক্ষা (Blood Test) করার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা উচিত
প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

Things to keep in mind before performing a blood test in the lab

পৃথিবীতে অনেকগুলো রোগের লক্ষণ দেখতে একই রকম আর ডাক্তার শুধু মাত্র দেখে রোগ সর্ম্পকে ধারণা করেন কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য টেস্ট করতে দেন। তাই টেস্ট দিলে বিরক্ত না হয়ে টেস্ট করার আগে বিভিন্ন নিয়ম সমন্ধে জেনে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।কারণ অনেক সময় দেখা যায়,ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসাও ভুল হয়।

১) ডাক্তার যখন আপনাকে টেস্ট/ Test   দেন,সংকোচ না করে টেস্টের ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নিবেন।এতে অহেতুক ভুল বুঝাবুঝি,সময় ও অর্থ  নষ্ট থেকে বেঁচে যাবেন।

২) টেস্ট কি খালি পেটে না ভরা পেটে তা জেনে নিবেন। রক্ত দেয়ার আগে এক্সরে,সিটিস্ক্যান,এমআরআই ইত্যাদি কোন ধরনের ইমেজিং টেস্ট করা যাবে না।

৩) দিনের কোন সময়ে টেস্ট করাবেন জেনে নিবেন।

৪) নিয়মিত যে ঔষধ খান,টেস্ট করানোর আগে তা খাবেন কিনা জেনে নিবেন।বিশেষ করে ডায়াবেটিক,কিডনী ও হরমোনজনিত রোগের রোগীরা সর্তক থাকবেন।

৫) আপনি যদি কোন ডিসকাউন্ট চান তবে তা ডাক্তার থেকে লিখিয়ে নিন।

৬) ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট এন্ট্রি করার পর আবার প্রেসক্রিপশন এর সাথে মিলিয়ে নিন

ডাক্তার দেখানোর আগে যে কাজ গুলো করা উচিত

৭)  যাবতীয় ফর্মালিটি শেষ করে ১০-১৫ মিনিট শান্ত হয়ে বসুন। এতে আপনার শরীর ” ব্যাসাল স্টেট” চলে আসবে যা নির্ভুল টেস্টের বড় ফ্যাক্টর।তারপর স্যাম্পল দিন।

৮) আপনি কোন মেডিসিন খেয়ে থাকলে তা ল্যাব টেকনোলজিস্টকে জানান।ইনসুলিন নিয়ে থাকলেও জানাবেন।

৯) আপনার যদি কোন স্পেশাল থেরাপি বা ট্রিটমেন্ট চলে তবে তা জানাবেন।

১০)  খালি পেটে থাকার সময় ৮- ১০ ঘন্টার অধিক হয়ে গেলে  ঐদিন কেমিস্ট্রি ও হরমোন টেস্ট করাবেন না।

১১) নিয়মের বাইরে যাওয়ার জন্য ল্যাব পারসোনালকে অনুরোধ করবেন না।এতে আপনারই ক্ষতি হবে।

১২)  আপনার যদি অনেক গুলো  টেস্ট থাকে,তবে দায়িত্নরত টেকনোলজিস্ট এর সাথে আলোচনা করুন।

১৩) সাধারণত টেস্টের জন্য মর্নিং স্যাম্পল সবচেয়ে ভালো, দুপুরে বা বিকেলে গিয়ে মর্নিং স্যাম্পল নেওয়ার জন্য অনুরোধ করবেন না।এতে ভুল রেজাল্ট আসার সম্ভাবনা বেশী।

১৪) টেস্ট প্রক্রিয়ায় কোন সন্দেহ বা জানার ইচ্ছে হলে সরাসরি প্রশ্ন করুন।এতে আপনি ও ল্যাব অথরিটি সবাই উপকৃত হবেন।

১৫) কোন স্যাম্পল রিপিট দিতে বললে ও যৌক্তিক কারণ দেখালে আবার স্যাম্পল দিন।এতে ওদের দুইবার খরচ হলেও আপনি বিনামূল্য টেস্ট রিপিট করাতে পারছেন।

কালচার ও সেনসিটিভিটি টেস্ট কিভাবে রোগীর জীবন রক্ষা করে

১৬) সব টেস্ট এক দিনে করাতে না পারলে অস্থির হবেন না।পরেদিন আবার টেস্ট করুন।

১৭) ডাক্তার যে ল্যাবে টেস্ট করতে বলেছে ঐ ল্যাব যদি আপনার আস্থা অর্জন করতে না পারে তবে সেখানে টেস্ট করবেন না।আর নিয়ম অনুযায়ী আপনি বাধ্যও নন।

১৮) টেস্ট করার আগে ল্যাবের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিন। যেমন:

# “স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি”  সার্টিফায়েড মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছে কিনা?

# তাদের নিজস্ব প্যাথলজিস্ট,বায়োকেমিস্ট ও মাইক্রোবায়োলজিস্ট আছে কিনা?

# তাদের সব মেশিনারিজ ও রিয়েজেন্ট আছে কিনা?

# তারা অন্য ল্যাব থেকে টেস্ট করিয়ে আনে কিনা?

এসবই আপনার জন্য খুব গুরুত্ববহন করে।একটি ভুল রিপোর্ট আপনার মূল্যবান সময় ও অর্থ সম্পদ ও মানসিক শান্তি নষ্ট করবে।

( রোগীর রোগ নির্ণয় ও রোগ নিরাময়ে রোগী নিজেই বড় ভূমিকা রাখে)


প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

Comments ( 4 )

  1. Nickname ( required )
    cbc test কি খালি পেটে করতে হয়?
    • isk
      না
  2. Nickname ( required )
    সাধারণ মানুষের পক্ষে ১৮ নং পরামর্শের ব্যপারে তথ্য নেয়া বা জানা কিভাবে সম্ভব?
    • isk
      রিপোর্ট প্যাডে টেকনোলজিস্টের সাক্ষর থাকবে। সরাসরি অফিসের যোগাযোগ করে জেনে নিতে পারেন। ওখানে হেলথ টেকনোলজিস্টদের আলাদা ফাইল থাকে।কারণ মাঝে মাঝে সিভিল সার্জন এসে চেক করে। রিপোর্ট এর নিচে সীল দেখে। কনসালটেন্ট যদি শহরে হয় এবং ল্যাব যদি ২ ঘন্টা দূরত্বে হয় তাহলে টেস্টের রেজাল্ট ৫০% ভুল হবার সম্ভাবনা বেশী। ধন্যবাদ। আরো কিছু জানার থাকলে হেল্পলাইনে কল করুন।

Leave a reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>