গর্ভাবস্থায় ভ্রমণকালীন সর্তকতাঃ আপনাকে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

by isk 0 Comments
গর্ভাবস্থায় ভ্রমণকালীন সর্তকতাঃ আপনাকে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে
আপনার চেম্বার/হাসপাতাল/মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

(চট্টগ্রামের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছে যাক আপনার সেবার বার্তা)

প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

গর্ভাবস্থায় ভ্রমণ

নানান সময় নারীদের গর্ভাবস্থায় ভ্রমণ করা জরুরী হয়ে পড়ে। এই সময়ে ভ্রমণ ক্লান্তিকর। সাধারণত এই সময়ে ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করা হয়। গর্ভাবস্থায় কম ভ্রমণ করে ঘরে থাকাই শ্রেয়। গর্ভবতী নারীরা নিজের সুরক্ষার কথা ভেবেই দীর্ঘ ভ্রমণে উদ্বিগ্ন হন।

এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ডাক্তারের সাথে কথা বলা। এতে গর্ভকালীন জটিলতা এড়াতে সব ধরণের সতর্কতা অবলম্বন করা যায়। অনাগত শিশুর সুরক্ষা এখানে সবচেয়ে বড় চাওয়া। কোথাও ভ্রমণে না গিয়ে বিকল্প উপায়ে সমাধান করা যায় কিনা সেটা প্রথমে ভেবে দেখতে হবে।

গর্ভাবস্থায় ভ্রমণ কী নিরাপদ ?

আপনার গর্ভকালীন সময়ে কোনো জটিলতা না থাকলে আপনার ভ্রমণ নিরাপদ।

ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় হলো দ্বিতীয় তিনমাসে।

প্রথম তিনমাস পারতপক্ষে সাবধান থাকাই ভালো।

তৃতীয় তিনমাসের সময়ও ভ্রমণ করা যায়। তবে এই সময়টায় শারিরীক ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদে ভুগতে পারেন।

লেবার পেইনের কারণে ৩৬ সপ্তাহের পর বিমান বা নৌভ্রমণ করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়।

যাদের জন্য ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ

আপনার যদি আগেও গর্ভপাত হওয়ার কোনো ইতিহাস থাকে তাহলে আপনার জন্য ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ। আগে যদি অপরিণত শিশু জন্মের ইতিহাস থাকে তাহলে ভ্রমণ না করাই ভালো। গর্ভে একাধিক সন্তান থাকলে ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ। এইসব পরিস্থিতিতে ভ্রমণ করতে চাইলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ভ্রমণ একদম অনুচিত। তবে গর্ভাবস্থার মাঝখানের তিনমাস ভ্রমণ তুলনামূলক নিরাপদ।

কোন পথে ভ্রমণ করবেন

যেসব বাহনে ঝাঁকি কম হয়, সেইসব বাহন আপনাকে বেছে নিতে হবে। স্থলপথের মধ্যে ট্রেনে তুলনামূলক ঝাঁকি কম হয়। তাই রেলওয়েতে ভ্রমণকে নিরাপদ বিবেচনা করা হয়। এখনকার দূরপাল্লার বাসগুলো বেশ ভালো মানের। রাস্তা ভালো হলে ঝাঁকুনিও কম হয়। বাসে ভ্রমণ করলে ভালো বাস বেছে নিন। গর্ভাবস্থার ৩০ থেকে ৩২ সপ্তাহ পর্যন্ত আকাশপথে ভ্রমণ করতে পারেন। ৩৬ সপ্তাহের পর আকাশপথে ভ্রমণ করা উচিত নয়।

সমুদ্রপথে ভ্রমণ

আপনি যদি সি সিকনেসে না ভোগেন, এবং কোনোধরণের জটীলতা না থাকে তাহলে মাঝের তিনমাস আপনি চাইলে সমুদ্রপথে ভ্রমণ করতে পারেন। তবে সেটা ১৫ থেকে ৩০ তম সপ্তাহের মধ্যে হলে ভালো হয়।

পাহাড়ি পথে ভ্রমণ

আপনার বাড়ি যদি পাহাড়ি এলাকায় হয় তবে তবে সাধারণ চলাফেরায়ও সতর্ক থাকুন। আর যদি সমতলে হয়, তবে অবকাশ যাপনের জন্য পাহাড়ে যাবেন? ধরুণ বাংলাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। আপনি কী অবকাশ কাটাতে সেখানে যাবেন? উত্তর হচ্ছে “না”! আপনি যাবেন না। এই সময়ে পাহাড়ে ভ্রমণ নিরাপদ নয়।

মনে রাখবেন

গাইনীকোলজিস্ট যার তত্বাবধানে আছেন,উনার মোবাইল নাম্বার নিয়ে রাখুন।

ভ্রমণের আগে আপনার সব ঔষুধ সাথে নিন।

সাথে একটি ফার্স্ট এইড বক্স রাখুন।

ভ্রমণের সময় আরামদায়ক এবং হালকা পোশাক পরুন।

কমফোর্ট লাগার মতো জুতো পরুন। হিল জুতো পরিহার করুন।

নিজেকে হাইড্রেট রাখার জন্য সাথে পানির বোতল রাখবেন, এবং পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করবেন।

ভ্রমণের সময় ক্ষুধা লাগতে পারে। বাইরের খাবার না খেয়ে সাথে হালকা খাবার রাখুন। কিছু ফলমূল সাথে রাখা যেতে পারে।

সবশেষে এটাই বলতে হয়, গর্ভাবস্থায় আপনি যা কিছু করুন না কেন, ডাক্তারের পরামর্শ মেনে করুন।


প্রিয়জনের উপকার করুন, শেয়ার করুন-

Leave a reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>