খাদ্য মজুদ: নিজের পায়ে কি নিজেই কুড়াল মারছি?

খাদ্য দিয়ে সাহায্য করুন

করোনা আক্রমণে পৃথিবী একটি চরম দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।আমরা বাংলাদেশীরা মাত্র আগুনের আচঁ পায়ছি,তারমধ্যেই আমরা দিশেহারা।আমরা প্রচুর খাবার জমা করছি,সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছি।আমরা হিংস্র জানোয়ারের মত আচরণ করছি।

ভাই, গরীব লোকেরা কোথায় যাবে?

ওরা না বাঁচলে,আপনার প্রতিবেশীরা না বাঁচলে।আপনিও বাঁচতে পারবেন না।

আমরা একটি ইকোসিস্টেমে বসবাস করছি।এখানে সবার সবারই দরকার।কেউ কাউকে ছাড়া চলতে পারবো না।যদি মনে করেন আপনার টাকা আপনাকে বাঁচাবে তাহলে ভুলে আছেন।প্রোডাকশন সাপ্লাই চেইন ভেংগে গেলে,কপাল চাপড়ানো ছাড়া গতি থাকবে না।

আপনি করোনা থেকে বাঁচলেন,আপনি ক্ষুধা থেকে বাঁচলেন কিন্তু গরীব,মজদুর এরা যদি ক্রমাগত মারা গিয়ে থাকে।তাহলে সমাজের ইকোসিস্টেম নষ্ট হবে,নতুন নতুন ভাইরাসের সৃষ্টি হবে।

ঘর ভর্তি খাবার রেখে আপনাকে কবরে যেতে হবে।আল্লাহতায়ালা মজুদকারীকে অভিশাপ দিছেন।রাসূল(সাঃ) দিয়েছেন।ভাই কেন আমি এ অভিশাপ নেব????

এ অবস্থার পরিবর্তন হবে।আবার শান্তি ফেরত আসবে।কিন্তু ভুল করলে পরে শোধরানোর সময় পাবেন না।

হিম্মত হারালে চলবে না।আতংকিত হয়ে ভুল করা যাবে না।সম্মিলিত ভাবে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে।এটি আমাদের ঈমানী পরীক্ষা।

আমেরিকানরা চাঁদা তুলে তাদের আর্থিকভাবে দূর্বল ভাইদের সাহায্য করছে।আমরা কেন পারবো না?

 

আমাদের যা করতে হবে:

# অতিরিক্ত পণ্য কিনে বাসায় মজুদ করবো না।শেষে দেখা যাবে বেশীরভাগ নষ্ট হয়ে গেছে।

দেশের এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট বন্ধ হয় নাই।কোন দেশ তার বিসনেস বর্ডার,বিসনেস করিডর বন্ধ করে নাই।কেন ভয় পাচ্ছেন ?

#স্যানিটাইজার যে কাজ করে সাবানও একই কাজ করে।তাই এগুলো মজুদ করবো না।

# বাসায় বা প্রতিষ্ঠানে যারা আমাদের অধীনে কাজ করছে তাদের অগ্রীম বেতন বা অন্যান্য জিনিস দিয়ে সাহায্য করবো।

# এলাকায় যারা সচ্ছল তাদের তালিকা করে সবার সম্মতিতে একটা “তহবিল” গঠন করবো।

# এলাকায় যারা গরীব,মজদুর, দূবল আছে,তাদের তালিকা করবো।

# এলাকায় যারা ঋণ বা কিস্তি নিয়েছে তাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে, কিস্তি বা ঋণ সংকটকাল পর্যন্ত বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করবো।

# এলাকার মুদি দোকান,ঔষধের দোকান বা জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকানদারের সাথে কথা বলে তাদের সাপ্লাই লাইন ও নিরাপত্তা যাতে বজায় থাকে,সে দিকে খেয়াল রাখবো।

# এলাকার গরীবদের ২ দিন পর পর বা সপ্তাহে ২ দিন রেশন দেয়ার সিস্টেম চালু করবো।

# আমরা যারা ধনী, তারা নিজেদের বাড়ীতে খাওয়ানোর আয়োজন করতে পারি।

# আমরা যারা দোকানদার আছি,আমরা মূল্য সহনীয় রাখবো।

# কেউ পণ্য মজুদ করে রাখলে ৯৯৯ কল করুন

# কেউ পণ্যের দাম বেশী রাখলে ১৬১২১ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।

# চট্টগ্রামবাসী হলে এই নম্বরে কল করুন।
মোঃ হাসানুজ্জামান, সহকারী পরিচালক, ভোক্তা অধিদপ্তর চট্রগ্রাম।
মোবাইল নাম্বারঃ- 01765005006।

 

সবাইকে নিয়ে বাঁচুন, তবেই নিজে বাঁচবেন।

(অনুরোধ করছি, পোস্টটি শেয়ার করুন অথবা মানুষকে খাদ্য মজুদের ব্যাপারে সচেতন করুন)

খাদ্য মজুদ: নিজের পায়ে কি নিজেই কুড়াল মারছি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to top
error: Content is protected !!